নির্মাণ ব্যয় কিভাবে কমাবেন ?

সত্যিকার অর্থে নির্মাণ ব্যয় কমানোর কোন সূত্র নেই। তবে কিছু কিছু সাবধানতা অবলম্বন করলে ও নির্মাণ সামগ্রী কেনার সময় সতর্ক থাকলে কিছুটা ব্যয় কমানো যেতে পারে। নির্মাণ কাজ যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী সম্পাদন করা যায় তাহলেও খরচ বাচানো সম্ভব।

নির্মাণ ব্যয় কমানোর সম্ভাব্য কিছু উপায় –

১. দেশি পন্যের ব্যবহার – আমাদের দেশে এখন বিদেশি মানের উন্নত নির্মাণ সামগ্রী তৈরি হচ্ছে যা দামের দিক থেকে তুলনামূলক কম। বিদেশি উপকরন ব্যবহার না করে দেশি উপকরন ব্যবহারে নির্মাণ ব্যয় সাশ্রয় হবে।

২. জায়গার সঠিক ব্যবহার – ভবন যে জমিতে নির্মাণ করা হবে তার সঠিক ও উপযুক্ত ব্যবহার করলে নির্মাণ ব্যয় তুলনামূলক কম হতে পারে।

৩. প্রাকৃতিক দূর্যোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা – ঝড়, বন্যা, জলোছ্বাস এমনকি ভূমিকম্প এসকল প্রাকৃতিক দূর্যোগে আমাদের কোন হাত থাকেনা। তাই আবাহাওয়ার খোঁজ খবর ভালভাবে নিয়ে তারপর নির্মাণকাজ শুরু করা উচিত। এতে করে নির্মাণ ব্যয় অনেকাংশে কমে যাবে।

৪. পরিবেশ নিয়ন্ত্রন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা – নির্মাণকাজে ব্যবহৃত স্থান এবং তার আশেপাশের পরিবেশ সুন্দরভাবে বজায় রাখা। নির্মাণকাজ চলাকালীন নির্মাণ শ্রমিক, প্রতিবেশি ও রাস্তায় চলাচলকারি লোকেদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করে রাখলে যেকোন ধরনের বিপদ থেকে বাচা যায়।

৫. একসাথে অনেক নির্মাণ সামগ্রী না কেনা – খুব বেশি প্রয়োজন না হলে অথবা সংরক্ষণের সুব্যবস্থা না থাকলে একসাথে অনেক পরিমানে নির্মাণ সামগ্রী না কেনাই ভাল। কেননা তাতে করে উপকরন নষ্ট হবার ভয় থাকে।

৬. নির্মান উপকরনের অপচয় রোধ করা – ভবন বা স্থাপনা নির্মাণে ব্যয় বাড়ার প্রধান কারন হচ্ছে নির্মান সমগ্রীর অপচয়। নির্মাণ উপকরন যত্রতত্র না ফেলে যত্নে রাখা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমানে ব্যবহার করা হলে অপচয় কমে আসবে। অপচয় কমলে নির্মাণ ব্যয়ও অনেক কমে আসবে।

৭. দেশে তৈরি স্যানিটারি পন্য – আমাদের দেশে এখন বিশ্বমানের অত্যাধুনিক ডিজাইনের স্যানিটারি পন্য ও ফিটিংস তৈরি হচ্ছে, এমনকি এসব বিদেশেও রপ্তানি করা হচ্ছে। এগুলো ব্যবহারে নির্মাণ ব্যয় কমানো সম্ভব।

ভবন নির্মাণের পুর্বে ইঞ্জিনিয়ারের সাথে ভালভাবে আলচনা করে জেনে নিন সর্বসাকুল্যে কি পরিমাণ নির্মাণ সামগ্রী লাগবে। একবারে সব না কিনে প্রতি ফ্লোরের জন্য আলাদা আলাদা করে কিনবেন। কারন নির্মাণ সামগ্রী সংরক্ষণের ও নিরাপত্তার বিষয় রয়েছে। নির্মাণ সামগ্রী কিনে ফেলে রাখলে সামান্য পরিমাণ হলেও নষ্ট হবে। এতে করে নির্মাণ কাজের সময় একই পন্য আবারো কিনতে হতে পারে, যা আপনার নির্মাণ ব্যয় বাড়াবে।