ভাল ষ্টীল / আয়রন বার চেনার উপায়

যেকোন ধরনের ভবন বা স্থাপনা নির্মাণে ষ্টীল বা আয়রন বার গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। সাধারণত সম্পূর্ন নির্মাণকাজের ১০ থেকে ১৫ ভাগ অর্থ ব্যয় হয় শুধু ষ্টীল বা আয়রন বার কেনার কাজে। ছাদ ঢালাইয়ের কাজেই ষ্টীল বা আয়রন বার বেশি ব্যবহৃত হয়। কংক্রিট চাপ সহ্য করে আর ষ্টীল বা আয়রন বার টান সহ্য করে।

বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বিভিন্ন গ্রেডের ষ্টীল বা আয়রন বার পাওয়া যায়। কিছু ষ্টীল বা আয়রন বার আছে যাদের গ্রেড নেই। গ্রেডহীন ষ্টীল বা আয়রন বার দিয়ে কখনই ভারী কোন নির্মাণকাজে ব্যবহার করা উচিত নয়।

ভাল মানের ষ্টীল বা আয়রন বার এর কিছু বৈশিষ্ট আছে যেগুলো এদেরকে করেছে সবার থেকে আলাদা এবং মানের দিক থেকে অতুলনীয়।

১. সঠিক গ্রেড ও পুরত্ব – আমাদের দেশে সাধারণত নির্মাণ কাজে ৪০ গ্রেড ও ৬০ গ্রেড এর আয়রন বার ব্যবহৃত হয়। ইঞ্জিনিয়াররা এই মানের আয়রন বারকেই ভবন নির্মাণের জন্য উপযুক্ত বলে মনে করেন।

২. কার্বন লোহা – লোহাতে কার্বনের পরিমানের উপর নির্ভর করে তার গুণগত মান। লোহায় কার্বনের পরিমাণ যত কম থাকবে সে লোহা বা আয়রন বার নির্মান কজের জন্য তত বেশি উপযোগী।

৩. মসৃন ও অমসৃণ রড – মসৃন রড এর কংক্রিট ধারন ক্ষমতা কম থাকে আরে অমসৃণ রডে কংক্রিট খুব ভালভাবে আটকে থাকে, যা নির্মিত স্থাপনার স্থায়িত্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক।

৪. সঠিক সুতার মাপ – সুতার মাপে আমদের দেশে ২ সুতা, ৩ সুতা, ৪ সুতা ও ৫ সুতার ষ্টীল বার পাওয়া যায়। বাড়ি বা ভবনের ছাদ নির্মানের জন্য ইঞ্জিনিয়াররা ৩ সুতা ও ৪ সুতার রড ব্যবহারের পরামর্শ দেন। বাড়ির কলাম ও ফাউন্ডেশনের জন্য ৫ সুতার রড এবং বাড়ির বিম বা কলামে ২ সুতার রড ব্যবহার করা হয়।

৫. ডাক্টাইল রড – বাড়ি তৈরিতে যে কংক্রিট ব্যবহৃত হয় সেটাকে কঠিনভাবে আকড়ে ধরে রাখতে ডাক্টাইল রড প্রয়োজন হয়। এই ধরনের রড কিংক্রিটে ফাটল ধরা থেকে সুরক্ষা দেয় যেটা ভবনের স্থায়িত্ব বহুগুন বাড়িয়ে দেয়।

মূলত উপরে বর্নিত আয়রন / ষ্টীল বারগুলোই ছোট বড় নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হয়। বাড়ি বা ভবনের ডিজাইন ও আকারের উপর ভিত্তি করে ইঞ্জিনিয়ারের পরামর্শে রডের আকার পরিবর্তন পরিবর্ধন করা যেতে পারে।